রাজধানী ঢাকা-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ইউরোপীয় মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে ৩.৬ মাত্রার এই ভূকম্পনটি আঘাত হানে। তাৎক্ষণিকভাবে দেশের কোথাও কোনো ধরনের বড় ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ভূমিকম্প নিয়ে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই মৃদু কম্পনটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে ভূকম্পন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া একেবারেই অসম্ভব। ২০২৩ সালে তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পের (যেটিতে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল) পর ভারত ও পাকিস্তানেও এ ধরনের গুজব ও আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। তখন বিশেষজ্ঞরা সেই গুজবের ভিত্তিহীনতা স্পষ্ট করেন।
ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার বিজ্ঞানসম্মত কোনো পদ্ধতি নেই—এই মতবাদটিকে সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূকম্পন প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ প্রফেসর মাইকেল ব্রুনো সেসময় বলেছিলেন, “এই মুহূর্তে এমন কোনো বিজ্ঞান, ম্যাজিক বা জাদুবিদ্যা নেই, যা ভূমিকম্প আঘাত হানার নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বাভাস দিতে পারে। বিজ্ঞানীদের ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট সময় বলতে পারার ক্ষমতা নেই।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান যে, “ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য বিজ্ঞানীরা সব পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, কিন্তু কেউ সফল হননি এবং বিশ্বাসযোগ্য পূর্বাভাস দিতে পারেননি।” একই প্রসঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ভূপদার্থবিদ্যার গবেষক প্রফেসর এগিল হোকসন উল্লেখ করেন, “ভূমিকম্প কখন হবে, তার সময় নির্দিষ্ট করে বলা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।”
বিশেষজ্ঞদের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে বারবার বলা হয়েছে যে, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট সময় ও স্থান আগে থেকে নির্ণয় করা বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব নয়। তাই, যেকোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে, বরং ভূমিকম্পের সময় করণীয় বিষয়ে সচেতন থাকা এবং ভবন নির্মাণে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

