জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’র কেন্দ্রীয় সংগঠক ডা. আব্দুল্লাহ আল সানী অভিযোগ করেছেন, বর্তমানে সরকারে থাকা ছাত্র উপদেষ্টারা বিচারিক সংস্কার কিংবা আসন্ন নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছেন না। বরং তারা কে কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন, তা নিয়েই বেশি ব্যস্ত।
গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে বগুড়ায় জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। শহরের একটি হলরুমে অনুষ্ঠিত এই সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক মহিদ উল নবী মিশু।
ডা. সানী আক্ষেপের সুরে বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি যে বিপ্লবের পর সমন্বয়ক, ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে অনেকেই দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির মতো কাজে জড়িয়ে পড়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও বিএনপি ও জামায়াত সফলতা পায়নি। শেখ হাসিনাকে অপসারণের এক দফা দাবির মূল আহ্বায়ক ছিলেন নাহিদ ইসলাম। তার ডাকেই ছাত্র, শ্রমিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সাড়া দিয়েছিল। ডা. সানী দাবি করেন, দেশে এখন ফ্যাসিবাদ পরাজিত এবং বাংলাদেশ ‘রাক্ষসমুক্ত’ হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে এই এনসিপি নেতা দাবি করেন, বিএনপি জনপ্রিয় দল হওয়া সত্ত্বেও নেত্রীর অনুপস্থিতিতে দলটি এখন জনবিচ্ছিন্ন। তিনি পূর্বাভাস দেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ৮০টির বেশি আসন পাবে না। একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনসিপি রেকর্ডসংখ্যক আসনে জয়ী হয়ে সংসদে যাবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গে ডা. আব্দুল্লাহ আল সানী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর কক্সবাজারে ‘ইয়াবা বদি’ নেই বলে শোনা যায়। তবে বদি না থাকলে ইয়াবা পাচার করছে কারা? এই পাচারের নেপথ্যে থাকা শক্তিকে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি)-এর বদলি হতে নাকি পাঁচ কোটি টাকা খরচ হয়। কক্সবাজার ও দিনাজপুরের ডিসি এবং এসপিকে তিনি সতর্ক করে বলেন, তাদের অঞ্চলে মাদক পাওয়া গেলে তাদের চাকরি থাকবে না। তিনি অভিযোগ করেন, মাদক নির্মূলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকেই ‘কথিত নিয়ন্ত্রণ’ দেখান; যেখানে ১০০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়, সেখানে মাত্র ২০ বোতল দেখানো হয় এবং বাকি ৮০ বোতলের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যায়।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাকিব মাহদী, জেলা সমন্বয়ক সৈয়দ সোহেল আহমেদ লিটন, জেলা যুবশক্তির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক প্রামাণিকসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতারা। এদিন বগুড়ার ১২ উপজেলার যুবশক্তির সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে সম্ভাব্য নেতা নির্বাচনের লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

