পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ও কারাবন্দী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য না দেওয়ায় খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ১৬ ঘণ্টা ধরে চলা তার অবস্থান ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন।
শুক্রবার (আজ) সকালে আদিয়ালা সড়ক থেকে অবস্থান কর্মসূচি তুলে নেওয়ার পর গোরখপুর চেক পয়েন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি। তিনি জানান, দলের কর্মীরা তার সঙ্গে পুরো রাত প্রতিবাদস্থলে কাটিয়েছেন।
আফ্রিদি বলেন, “আমরা কর্মীদের সঙ্গে এখানে রাত কাটিয়েছি। এটি মাত্র একটি রাত। পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার জন্য যদি আমাদের পুরো জীবনও এখানে কাটাতে হয়, আমরা তা করব।”
তিনি আরও বলেন, “পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আমাদের এখনো কিছু বলা হয়নি।” তবে মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে জানান, তারা তাদের দাবি থেকে সরে আসবেন না।
মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি অভিযোগ করেন, তিনি পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে দেখা করার জন্য “সব সাংবিধানিক ও আইনি পথ” অনুসরণ করেছেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি প্রতিটি সাংবিধানিক ও আইনি পথ ব্যবহার করেছি। আমার নেতার সঙ্গে দেখা করতে আর কোন পথ বাকি রইল?” তিনি আরও যোগ করেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে বা দলের অন্য নেতাদের কাউকেই ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের সমালোচনা করে সোহেল আফ্রিদি বলেন, পূর্বে যারা বিদেশে পালিয়ে যেতেন, তাদের একসঙ্গে ৫০ জনের দলকে (কারাগারে) দেখা করার অনুমতি দেওয়া হতো।
অবস্থান ধর্মঘট শেষ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হন। আশা করা হচ্ছে, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়ে তিনি উচ্চ আদালতে একটি আবেদন করবেন। আবেদন জমা দেওয়ার পর তিনি পুনরায় আদিয়ালা রোডে ফিরে আসবেন। তিনি আরও জানান, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও দেখা করবেন।
আদালতের আদেশ কার্যকর না হলে তা দেশে “জঙ্গলের রাজত্ব” প্রতিষ্ঠার শামিল হবে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) দলের নেতাদের ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না দেওয়ায় রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল রোডের গোরখপুর চেক পয়েন্টে পিটিআইয়ের নেতা–কর্মীরা ১৬ ঘণ্টা অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। এতে তেহরিক তাহাফুজ আইন-ই-পাকিস্তানের (টিটিএপি) প্রধান মাহমুদ খান আচাকজাই-সহ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন।
আচাকজাই সাংবাদিকদের বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মনে করেছিলেন, ফেডারেল ইউনিটের সাংবিধানিক প্রতিনিধি হিসেবে এবং আদালতের লিখিত নির্দেশ থাকায় তাকে নেতার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বা সম্মানের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন বলে তিনি মনে করেন।

