ভূমিকম্পে আহত ঢাবি শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার বিষয়ে ছাত্রদলের সাবেক ডাকসু ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে ফুটেজবাজি ও কাজ চুরির অভিযোগ করেছেন ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) আবিদের দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টকে ঘিরেই শুরু হয় আলোচনা।
আবিদ তার ফেসবুকে একটি ছবি শেয়ার করে লিখেন, ভূমিকম্প ইস্যুতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ঢাবি শিক্ষার্থীদের রাতেই ওয়ার্ড থেকে কেবিনে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডাক্তাররা স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়ে এসেছেন এবং যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। একইসঙ্গে ডাক্তাররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীদের ও তাদের রিপোর্টগুলো দেখে গেছেন এবং যথাযথ পরামর্শ প্রদান করেছেন। তাছাড়া ভূমিকম্পে আহত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সকলের বিষয়ে ডাক্তাররা যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট জনাব তারেক রহমান ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের।
আবিদের এই পোস্ট শেয়ার করে ডাকসুর মিনহাজ লিখেন, ডাইরেক্টরের সাথে কথা বলে কেবিন ম্যানেজ করলাম আমি (মেসেজিং প্রুফ আছে)। সকাল থেকে অতিরিক্ত ডাক্তার দিয়ে সেবা নিশ্চিত করা, প্লাস্টার দ্রুত নিশ্চিত করা, সিট কনফার্ম করা থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করলাম ডাকসুর কয়েকজন।
তিনি আবিদকে বলেন, গিয়ে ফুটেজবাজি করছেন। কিন্তু ক্রেডিট নিলেন জিয়া ফাউন্ডেশনের। দেখতে যাওয়াকে স্বাগত জানাই। সুনির্দিষ্টভাবে এটা ক্লিয়ার করে বলেন—জিয়া ফাউন্ডেশন আসলে তাদের জন্য কী করছে?
আবিদের ওই পোস্টে কমেন্ট করে মিনহাজ লেখেন, কাজ করে ফুটেজবাজি কম করি। তাই বলে কাজ চুরি করবেন—এটা তো মানবো না আবিদ ভাই।
মিনহাজের বক্তব্যে জবাবে আবিদ লিখেন, আমি সন্ধ্যা নাগাদ যখন ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে শিক্ষার্থীদের দেখতে যাই, হাত ও পা ভাঙা তানভীর আবেগঘনভাবে বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশের ফলে আমি ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে আমাদের সাইড থেকে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ করি। ডাক্তাররা দ্রুত সাড়া দিয়েছেন এবং সেই কলেই দায়িত্বরত ডাক্তারকে কেবিনের বিষয়ে জানিয়েছেন। আমি শুধু তানভীর না বাকী দুজনের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছি। পরে আবার ওয়ার্ডে গিয়ে তিনজনকেই আপডেট জানিয়েছি যে রাত ১০টায় ডাক্তার আসবেন এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। তাতে তিনজনই খুব ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। পরবর্তীতে ডাক্তারও এসেছেন। আমি পরিস্থিতি বিবেচনায় যেটুকু দায়িত্ব পালন প্রয়োজন সেটুকুই করেছি। হঠাৎই আমার ডাকে সাড়া দিয়ে ডাক্তাররা যেভাবে ছুটে এসেছেন—শিক্ষার্থীদের জন্য সেটার সাথে যারা সংশ্লিষ্ট আছেন তাদের তো ধন্যবাদ দিতেই পারি। দুর্যোগে একে অপরের পাশে থাকবে—এটাই তো মানবতা। সম্মিলিতভাবে প্রত্যেকে নিজের সাধ্যের মধ্যে চেষ্টা চালাবে—এটাই তো স্বাভাবিক। এটা নিয়ে অন্তত নোংরামি করা থেকে বিরত থাকুন।
আবিদের জবাবে মিনহাজ লেখেন, আমি আপনার ডাক্তারদের সাথে কথা বলেছি। ঘটনাক্রমে ঐ সময়েই নিজ হাতে ফাইল নিয়ে গিয়ে কেবিন নম্বর লিখে এনেছি। ফাইল হাতে আপনার ডাক্তারদের সাথে দেখা হলে তারা অবাক হয়েছেন। অফিস টাইমের বাইরে গিয়ে ভিআইপি কেবিন ম্যানেজ হয়েছে। স্পষ্টতই আপনি মিথ্যাচার করছেন।

