বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক সন্ধিক্ষণে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার প্রশ্নে জাতি যখন নতুন দিকনির্দেশনার সন্ধান করছে, ঠিক তখনই তারেক রহমান এমন এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, যিনি অতীতের ঐতিহ্য ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশার মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পুনর্জাগরণ এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে তারেক রহমান আজ “আগামীর বাংলাদেশ”-এর নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে তাঁর চরিত্র হননের এমন কোনো চেষ্টা নেই যা আওয়ামী লীগ করেনি। কিন্তু যার পুরো পরিবার বাংলাদেশের জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছে নিজেদের জীবন, তাকে কিভাবে দূরে রাখবে জনগণের মন থেকে। জনগণের মনিকোঠায় তিনি ঠিকই জায়গা করে নিয়েছেন এবং নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন সাচ্চা বাংলাদেশি হিসেবে এবং বাংলাদেশের আগামীর নিবেদিত প্রাণ হিসেবে।
২০০১-২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি তথা বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তিনি দলকে পুর্নগঠনে মনোযোগ দিয়েছেন। মায়ের প্রধানমন্ত্রীত্বকে ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমে তিনি নিজেকে জড়াননি। বরং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে নানা পরিকল্পনায় মগ্ন থাকতেন। যেমনটি ছিল পিতা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে যেমন কোনো আত্মীয়-স্বজন বা পরিবারে কেউ কোনো রাষ্ট্র কাজে হস্তক্ষেপ করেনি তেমনি একই চিত্র ছিল বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেও। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে এই পরিবারকে। দেশের সর্বোচ্চ শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে পরিবারের সকল সদস্যকে। পাশাপাশি দুর্নীতির কল্পিত কাহিনী দ্বারা চরিত্র হনন করা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তারেক রহমানেরও। কিন্তু সাক্ষী প্রমাণ ছাড়া এসব কাহিনী জনগণ বুঝতে পেরেছিল, যার কারণে তারেক রহমান তথা জিয়া পরিবারকে যত বেশি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে, এই পরিবার তত বেশি দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করার শক্তি পেয়েছে এবং জনগণের ভালোবাসা পেয়েছে।
২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কারাবন্দি ও পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে প্রবাসজীবন শুরু করলেও, তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব থেমে যায়নি। তিনি ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, ও প্রবাসে অবস্থানরত কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় রেখে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ধরে রেখেছেন। প্রবাস থেকে বসে বিএনপির নেতৃত্ব এমন সৃষ্টি করেছেন যা স্বৈরাচার হাসিনার মসনদের কাপন সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফসল হিসেবে ছাত্র-জনতার গণঅভূত্থানের পথ তৈরি হয়। আর এ গণঅভূত্থানের পিছনের শক্তি ছিলেন তারেক রহমান, যার পরিকল্পনা ও সুদক্ষ পরিচালনায় হাসিনার পতন ঘটেছে বলে মনে করে সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের ভাষায় তারেক রহমানই আগামীর একমাত্র নেতৃত্ব, যার হাতে নিরাপদ থাকবে এই স্বদেশ ভূমি। যার গোড়াপত্তন হয়েছে তারই পিতা স্বাধীনতার মহান ঘোষক জিয়াউ রহমানের ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণার মাধ্যমে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীতে এমন একটি দেশ বিনির্মাণ হবে যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য। যেখানে জনগণের ভোট ও মত প্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসন হবে নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক, অর্থনীতি হবে প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও জনগণকেন্দ্রিক এবং গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে রাজপথে নেতৃত্ব দেওয়া জেন-জি প্রজন্ম হবে পরিবর্তনের অগ্রসেনানী হিসেবে। তারেক রহমান বলছেন, ‘আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা, সবার আগে বাংলাদেশ’। বাংলাদেশকে নিয়ে তিনি ভাবেন, ভাবছেন এবং আগামীর করণীয় নিয়ে কাজ করছেন। কিভাবে কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে বাংলাদেশকে একটি স্বণির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা যায় এবং দেশের জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন করা যায়। আমরা তারেক রহমানের মাঝে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি।
জিয়াউর রহমানের চিন্তা চেতনা সব যেমন দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে, তেমনি তারই তনয় তারেক রহমানের চিন্তা চেতনাও দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে। জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, ‘দেশের উন্নতি আমাদের লক্ষ্য, আর উন্নতির জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ ‘সর্বদা জনগণের পক্ষে থাকতে হবে, কারণ জনগণের পক্ষে কাজ করা হলো আমাদের প্রথম কর্তব্য।’ লক্ষ্য এবং স্বপ্ন উভয়ের এক, আর সেটাই হচ্ছে বাংলাদেশ।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব গুণ আর দক্ষতার মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে। এটাই বিশ্বাস করে এই প্রজন্ম, তাঁর রাজনীতি, ভাষার ব্যবহার এবং দেশপ্রেমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ বেড়েছে। তারা এখন স্বপ্ন দেখছে একটি বৈষম্যহীন আগামীর বাংলাদেশ, যেখানে সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি। ২০০৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে। জনগণের অধিকার, গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রীয় ন্যায্যতার প্রশ্নে জাতি নেতৃত্ব খুঁজছে। জাতি বিশ্বাস করে সেই নেতৃত্বের সম্ভাবনাময় প্রতিচ্ছবি তারেক রহমান, যিনি ঐতিহ্যের ধারক এবং পরিবর্তনের অগ্রদূত। তাঁর লক্ষ্য একটি স্বাধীন, মর্যাদাবান ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, যেখানে রাষ্ট্রের শক্তি হবে জনগণ, আর জনগণের শক্তি হবে ন্যায় ও জাতীয় ঐক্য।

