উন্নয়নমূলক প্রকল্প যখন অপরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হয়, তখন তা জনকল্যাণের বদলে জনসাধারণের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলায় যমুনার ডানতীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার প্রকল্পের ক্ষেত্রে ঠিক এমনটাই ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) খামখেয়ালিপনায় সাঘাটা উপজেলার বাঁশহাটা থেকে জুমারবাড়ী ইউনিয়নের বসন্তেরপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত বাঁধের ওপর নির্মিত সড়কটি বর্তমানে হাজারো মানুষের জন্য এক ভয়ংকর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সাঘাটার ডাকবাংলা পাঁচমাথা মোড় থেকে জুমারবাড়ী বাজারের প্রবেশপথ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে বাঁধ সংস্কারের সময় সড়কের পূর্ব পাশে দীর্ঘ একটি মাটির আইল বা উঁচু ঢাল নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর ফলে সড়কের স্বাভাবিক প্রশস্ততা যেমন মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে, তেমনি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে এবং সড়কের ঢালু অংশ ভেঙে পড়ছে। স্থায়ী কোনো সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে মাঝেমধ্যে কেবল মাটি ও রাবিশ ফেলে দায়সারাভাবে গর্তগুলো ভরাট করা হয়, যা টেকসই হচ্ছে না।
সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতকারী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং অসংখ্য ছোট-বড় যানবাহন প্রতিদিন এই পথ দিয়ে চলাচল করে। কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের মতো দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষ এই সড়কটির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে রাস্তাটি এতটাই সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যে, পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য ন্যূনতম জায়গাও অবশিষ্ট নেই। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের দ্রুতগতির যানবাহনের গা ঘেঁষে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে পথ চলতে হচ্ছে।
অতিরিক্ত মাটির স্তূপ রেখে সড়কের ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে কাঁচা-পাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এসব অবৈধ স্থাপনার পজেশন বিক্রি করা হয়েছে। চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সংস্কারের নামে মূলত মানুষের চলাচলের পথকে সংকুচিত করা হয়েছে এবং এই সড়কটি এখন সরাসরি একটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সড়কের এই বেহাল দশা ও আইল নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাঘাটা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী নয়ন রায় উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, সড়কটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ওপর অবস্থিত হওয়ার কারণে এর উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের দাপ্তরিক ও কাঠামোগত জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
