গাইবান্ধায় পারিবারিকভাবে বিয়ে চূড়ান্ত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে হবু বধূকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযুক্ত ওই যুবক বিয়ের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এলে ভুক্তভোগীর পরিবার বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নেয়, যার প্রেক্ষিতে শনিবার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) আত্মগোপনে থাকা ওই যুবককে আটক করতে সক্ষম হয়। একটি সামাজিক চুক্তির প্রতিশ্রুতির আড়ালে এমন অপরাধ স্থানীয় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় পুলিশ ও র্যাবের সূত্রমতে, অভিযুক্ত যুবকের নাম উজ্জ্বল মিয়া, যার বয়স আনুমানিক পঁচিশ বছর। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বেড়াডাঙ্গা গ্রামের প্রয়াত শাহিন মিয়ার ছেলে। জানা গেছে, দুই পরিবারের পূর্ণ সম্মতিতে সম্প্রতি ভুক্তভোগী ওই তরুণীর সঙ্গে উজ্জ্বল মিয়ার বিয়ের আলোচনা পাকাপাকি হয়। অভিযোগ রয়েছে, দুই পরিবারের মধ্যে এই সামাজিক সমঝোতার সুযোগকে নেতিবাচকভাবে কাজে লাগান উজ্জ্বল। তিনি ওই তরুণীকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে প্রথমবার ধর্ষণ করেন। ঘটনার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ গত সাতাশে মে অভিযুক্ত যুবক তরুণীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে শুরু করে, কারণ অভিযুক্ত উজ্জ্বল নানা অজুহাত দেখিয়ে পূর্বনির্ধারিত বিয়ে করতে চরম অস্বীকৃতি জানাতে থাকেন।
সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এবং চরম প্রতারণার শিকার হয়ে গত সাতই জুন ভুক্তভোগী তরুণীর মা আইনের দ্বারস্থ হন। তিনি বাদী হয়ে দেশের প্রচলিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে উজ্জ্বল মিয়াকে একমাত্র আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। মামলা দায়েরের বিষয়টি টের পেয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্ত যুবক দ্রুত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। শনিবার দুপুরে র্যাব-১৩ এর মিডিয়া বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে জানানো হয় যে, গোপন ও বিশ্বস্ত তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পলাতক উজ্জ্বলকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে র্যাব অভিযুক্ত যুবককে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সদর থানা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে। এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত সাতই জুন দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার একমাত্র আসামিকে র্যাব অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এরপর থানা পুলিশ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বিচারিক আদালতে প্রেরণ করেছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

